Sunday, 18 August 2013

বাঙালির বোরখা




 ষাটের দশকের শেষ দিকে আমি বিদ্যাময়ী  ইস্কুলে পড়ি। ময়মনসিংহে শহরের সবচেয়ে নামকরা মেয়েদের ইস্কুল। হাজারো  ছাত্রী, কিন্তু  কেউই কখনও বোরখা পরতো না।  কোনো ছাত্রী তো নয়ই, কোনও শিক্ষিকাও  নয়। বোরখার কোনও চলই ছিল না। খুব পর্দানশীল মৌলবী পরিবারের বয়স্ক মহিলারা বাইরে বেরোলে রিকসায়  শাড়ি পেঁচিয়ে নিত। ওদেরও পরার বোরখা ছিল না।    সত্তরের দশকে আমি ওই শহরেই রেসিডেন্সিয়াল মডেল ইস্কুলে পড়ি।  সারা ইস্কুলে  একটি  মেয়েই বোরখা পরতো। তখন বোরখা কিনতে পাওয়া যেত না।  পরতে চাইলে কাপড় কিনে বানিয়ে নিতে হত। মেয়েটির  বোরখাও কাপড় কিনে বানিয়ে নেওয়া। তার মৌলবী-বাবা  জোর করে তাকে বোরখা পরাতো। মেয়েটি আমাদের ক্লাসেই পরতো।  নাম ছিল হ্যাপি। লম্বা টিংটিঙে মেয়ে। আমিও ছিলাম হ্যাপির মতো লম্বা টিংটিঙে।  হ্যাপি তার বোরখাটা ইস্কুলের গেটের কাছে এসেই খুলে ফেলতো,  বোরখাটাকে   বইখাতার ব্যাগে ঢুকিয়ে  তবেই  ইস্কুলে ঢুকতো।  সে যে বোরখা পরে ইস্কুলে আসে তা কাউকে জানতে দিতে চাইতো না। কিন্তু   খবরটা একদিন ঠিকই জানাজানি হয়ে যায়। জানাজানি হওয়ার পর ইস্কুলের মেয়েরা সবাই হ্যাপিকে নিয়ে হাসাহাসি করতো। হ্যাপি ক্লাসের  পেছনের বেঞ্চে বসতো বোরখা পরার লজ্জায়। সঙ্গে আবার পড়াশোনা ভালো না করার লজ্জাও ছিল।  আমি ভালো ছাত্রী হলেও সবার সঙ্গেই মিশতাম। হ্যাপির সঙ্গেও।   হ্যাপি খুব অসভ্য অসভ্য গালি জানতো। ক্লাসের অন্য মেয়েরা হ্যাপির মতো অত গালি জানতো না।  আমি তো আগে কোনওদিন শুনিনি ওসব গালি। হ্যাপি যখন ক্লাস নাইনে বা টেন-এ, তখন তার বাবা জোর করে তার বিয়ে দিতে চাইছিল।  হ্যাপি তার হবু-স্বামীর কথা বলতো আর তার বাপ মা তুলে গালাগালাজ করতো। আমি অবাক হয়ে ওসব শুনতাম। ক্লাসের সবচেয়ে ডাকাবুকো মুখ-খারাপ মেয়ে কিনা বোরখা পরে। আর আমরা যারা কোনও গালি জানি না, আমরা যারা সরল সোজা ভালোমানুষ, তারা কোনওদিন বোরখার কথা কল্পনাও করিনি। বোরখা একটা হাস্যকর পোশাক ছিল ষাট আর সত্তর দশক জুড়ে। দু'একজন যারা পরতে বাধ্য হতো, তারা লজ্জায় রাস্তাঘাটে মাটির সঙ্গে মিশে থাকতো।

আশির দশকের শেষ দিকে শাড়ির ওপর একটা বাড়তি ওড়নার মতো কাপড় পরা শুরু হয়েছিল। নব্বই দশকের শুরুতেও তাই ছিল।   একটা বদ হাওয়া টের  পাচ্ছিলাম, প্রাণপণে রুখতে চাইছিলাম সেই বদ হাওয়া। সমাজের   ইসলামীকরণ এবং নারীবিরোধী ইসলামী আইনের প্রতিবাদ করেছিলাম।  সে কারণে আমাকেই   তাড়িয়ে  দেওয়া হল দেশ থেকে।  চুরানব্বই থেকে দেশের বাইরে। নির্বাসন জীবনে দেশে কী হচ্ছে না হচ্ছে সব খবর   রাখার সুযোগ  হতো না। হঠাৎ সেদিন, এই বছর দুয়েক আগে,  চমকে উঠেছি   কিছু ছবি দেখে। আমাদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে ঘটে যাওয়া  রজত  জয়ন্তী উৎসবের ছবি, যে উৎসবে আমার প্রচুর সহপাঠী   গিয়েছিল,  সবাই এখন দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। ছবিগুলোর সামনে আমি হতভম্ব, হতাশ বসে থেকেছি সারাদিন। প্রায় সব সহপাঠী মেয়ের  মাথায় হিজাব, কালো কাপড়ে কপাল অবধি ঢাকা, অত সুন্দর চুলগুলো সব লুকিয়ে ফেলেছে! আর প্রায় সব  সহপাঠী ছেলের মুখে দাড়ি নয়তো মাথায় টুপি, কপালে মেঝেয় কপাল ঠুকে নামাজ পড়ার কালো দাগ। এই ছেলেমেয়েগুলো পুরো আশির দশক জুড়ে আমার সঙ্গে ডাক্তারি  পড়েছে, কোনওদিন কাউকে এক রাকাত নামাজ পড়তে দেখিনি, কোনওদিন কাউকে আল্লাহর নাম মুখে নিতে   শুনিনি।  এমন  আধুনিক সব চিকিৎসাবিজ্ঞানী কি না হয়ে উঠেছে পাঁড় ধর্মান্ধ? কে এই বিজ্ঞানীদেরও মাথার খুলি খুলে গোবর  ভরে  দিয়েছে!   তবে কি সেই বদ হাওয়া, যেটিকে রুখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু রুখতে দেওয়া হয়নি,  সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল বিষাক্ত ভাইরাস,  যুক্তি বুদ্ধি চিন্তাশক্তি লোপ পাইয়ে দেওয়ার ভাইরাস?  যদি ডাক্তারদেরই এই হাল,   কল্পনা করতে পারি আর সব সাধারণ মানুষ এখন ধর্মান্ধতার কোন স্তরে   পৌঁচেছে। পৌঁচেছে না বলে সম্ভবত তাদের কোন স্তরে  পৌঁছোনো হয়েছে বলা ভালো। 


আজ দেশ থেকে একজন জানালো, মিতা হকের বক্তব্য নিয়ে দেশে  নাকি  হুলস্খুল কাণ্ড হচ্ছে। ইউটিউবে  কিছুক্ষণ আগে শুনলাম ওঁর কথা। চলতে ফিরতে   রাস্তাঘাটে বাজারে অফিসে যেখানেই যত মেয়েদের চোখে পড়ে, প্রায় সবারই পরনে নাকি থাকে কালো বোরখা, শুধু চোখদুটো খোলা, যেন হোঁচট না খায়! প্রায় সবাই  তবে  চলমান কয়েদি! সবারই গায়ে মস্ত কালো সতীত্ব বন্ধনী!  মিতা হক যা বলতে চেয়েছেন, তা  হল, নিজেদের   সংস্কৃতিকে সম্মান করো,    আরবের ধর্ম গ্রহণ করেছো, কিন্তু আরবের পোশাক-সংস্কৃতি তোমাকে গ্রহণ করতে হবে কেন!

 বোরখা ঠিক আরবের পোশাক নয়, বোরখা ইসলামের পোশাক। আরবে ইসলাম আসার আগে বোরখা বলে কিছু ছিল না। ইসলামকে নিরীহ বাঙালি  মুসলমানদের  মস্তিস্কের কোষে কোষে  এমন গভীরভাবে ঢুকিয়ে  দেওয়া হয়েছে যে গত দু'দশক ধরে  বাঙালি মুসলমান মেয়েরা  বোরখাকে নিজের পরিচয়ের অংশ বলে মনে করছে, অথবা মনে করতে  বাধ্য হচ্ছে।  ‘আমরা বৌদ্ধ, আমরা হিন্দু, আমরা খিস্টান, আমরা মুসলমান, আমরা সবাই বাঙালি’— সত্তর  দশকে বাঙালিরা এই গানটা খুব গাইতো। এই  গান কেউ আর এখন  গায়  বলে মনে হয় না। এখন বাঙালি পরিচয়ের চেয়ে বড় পরিচয় মুসলমান পরিচয়। এই পরিচয়টি যখন বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন বোরখার চল বাড়ে। দাড়ি টুপির প্রকোপ বাড়ে। তুমি মসজিদ মাদ্রাসা বানিয়ে  দেশ ছেয়ে ফেলবে, তুমি ইসলামি আইন রাখবে দেশে, তুমি সংবাধিনে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখবে, তুমি   ইসলামি মৌলবাদীদের রাজনীতি করতে দেবে, তাদেরকে সংসদে বসতে দেবে, তাদেরকে অবাধে  ওয়া্জ মাহফিল আর ইসলামি জলসা করতে দেবে,  তোমার চোখের সামনে ইসলামিকরণ হবে   দেশটার, আন্তর্জাতিক মৌলবাদী-সন্ত্রাসী চক্র কাড়ি কাড়ি টাকা পাঠাবে দেশের যুব সমাজকে নষ্ট করার জন্য, যুব সমাজ নষ্ট হতে থাকবে আর তুমি শাড়ি পরে  কপালে টিপ পরে  সাহিত্য সংস্কৃতির ছোট একটা শহুরে গোষ্ঠির মধ্যে ঘোরাঘুরি করে    রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে গাইতে   স্বপ্ন দেখবে বাঙালির বাঙালি পরিচয়টা বড়   মুসলমান পরিচয়ের চেয়ে,  তা কী হয়! এ তো রীতিমত জেগে ঘুমোনোর  মতো!  

মেয়েদের বোরখা পরার অর্থ হল, মেয়েরা  লোভের জিনিস, ভোগের বস্তু, মেয়েদের শরীরের কোনও অংশ  পুরুষের চোখে পড়লে পুরুষের   যৌন কামনা  আগুনের মতো দাউ দাউ করে জ্বলে,  লোভ লালসার বন্যা নামে, ধর্ষণ না করে ঠিক শান্তি হয় না।     পুরুষদের এই যৌনসমস্যার কারণে  মেয়েদের আপাদমস্তক ঢেকে রাখতে হবে। এই হলো সপ্তম শতাব্দিতে জন্ম হওয়া ইসলামের বিধান। এই বিধান বলছে ,  পুরুষেরা সব অসভ্য, সব বদ,  সব যৌন কাতর,  ধর্ষক, তারা  নিজেদের যৌন ইচ্ছেকে দমন করতে জানে না, জানে না বলেই   শরীরের আপাদমস্তক ঢেকে রাখার দায়িত্ব  মেয়েদের নিতে হয়।  সত্যি কথা বলতে কী, বোরখা মেয়েদের যত অপমান করে, তার চেয়ে বেশি করে পুরুষদের।  বোরখার প্রতিবাদ পুরুষদেরই করা উচিত। অবাক হই, পুরুষেরা কী করে তাদের নিজেদের ধর্ষক পরিচয়টিকে টিকিয়ে রাখতে চায় মেয়েদের বোরখা পরার বিধানটি জারি রেখে! নিজেদের আত্মসম্মানবোধ বলে কিছুই কি নেই পুরুষের? তারা কেন এখনও বলছে না, ‘আমরা মেয়ে দেখলেই  ঝাঁপিয়ে পড়বো না, আমরা আমাদের যৌনইচ্ছেকে সংযত করতে জানি, আমরা বর্বর নই, আমরা অসভ্য অসংযত ধর্ষক  নই। আমরা শিক্ষিত, সভ্য। মেয়েরাও আমাদের মতো মানুষ। মেয়েদেরও তো যৌনইচ্ছে আছে, সে কারণে আমাদের তো বোরখা পরতে হয় না।  যদি মেয়েরা তাদের যৌনইচ্ছেকে সংযত করতে জানে, আমরা জানবো না কেন? আমরা জানি মেয়েদের সম্মান করতে। আমাদের দোহাই দিয়ে মেয়েদের বোরখার কারাগারে ঢুকিয়ে অত্যাচার করা আর চলবে না’।   


মিতা হকের আরব সংস্কৃতি নিয়ে বেশ রাগ। আরব সংস্কৃতি কেন বাংলায় এসেছে, এ প্রশ্ন অবান্তর। আরব  ,পারস্য, তুরস্ক, সমরখন্দ –এসব দেশ    থেকে মুসলমানরা ভারতবর্ষে  এসেছে, সঙ্গে ইসলাম এসেছে, দশম-একাদশ শতাব্দীতে  মুসলমান সুফিরা  বেশ জনপ্রিয় হতে শুরু করেছিল। আমাদের হিন্দু পূর্বপুরুষ  ধর্মান্তরিত হয়েছেন নানা কারণে,   সুফিদের অমায়িক ব্যবহারে অথবা ব্রাহ্মণদের জাতপাতের  অত্যাচারে। কোনও ভাষা বা কোনও সংস্কৃতি মন্দ নয়, অসুন্দর নয়।  আমাদের নিজেদের ভাষা আর  সংস্কৃতিও  পৃথিবীর বিভিন্ন  ভাষা আর সংস্কৃতির সঙ্গে মিলেছে, মিশেছে। ভাষা আর  সংস্কৃতির বিবর্তন সবসময় ঘটছে, বাংলার মেয়েরা সবসময় এভাবে শাড়ি পরতো না, যেভাবে এখন   পরে।  বাঙালিরা  সবসময় ঠিক এই ভাষায় কথা বলতো না, যে ভাষায় আমরা এখন কথা বলছি বা লিখছি।  আমাদের ভাষার মধ্যে অন্য অনেক ভিনদেশি  শব্দ ঢুকেছে।  দরজা খোলা রাখাই ভালো, অন্য শব্দ, অন্য সুর, অন্য গল্প  ঢুকতে চাইলে ঢুকুক।  নিজের ভাষা আর সংস্কৃতি  এতে মরে যায় না, বরং সমৃদ্ধ হয়।   কিন্তু ক্ষতি হয় যখন কোনও ধর্ম তার মৌলবাদী চরিত্র নিয়ে ঢোকে।  কারণ মৌলবাদী ধর্ম মানবতার আর মানবাধিকারের ঘোর বিরোধী। 


ভারতবর্ষে যে সুফি ইসলামের প্রচার হয়েছিল, সেটির চরিত্র ছিল উদার।  সুফিরা নামাজ রোজায় বিশ্বাসী ছিলেন না।  বুলেহ শাহ নামের এক সুফি কবি তো মসজিদ মন্দির সব ভেঙে ফেলার কথা বলতেন। বলতেন, 'মসজিদ মন্দির ভেঙে ফেলো, হৃদয় ভেঙো না, হৃদয়ই সবচেয়ে বড় পবিত্র স্থান, কাবার চেয়েও পবিত্র'। সুফি ইসলামকে সরিয়ে মৌলবাদী ইসলাম  গেড়ে বসলো  ভারতবর্ষে,  সম্ভবত  তিরিশ চল্লিশের দশকেই,  গোটা পৃথিবীকেই দখল করার জিহাদি স্বপ্ন নিয়ে তখন  মাওলানা মওদুদি বানিয়ে  ফেললেন  তাঁর জামাতে ইসলামি দল। ভারত ভাগের পর ভৌগলিক সুবিধের কারণে অত দ্রুত মৌলবাদী ইসলাম  এসে নষ্ট করতে পারেনি  হিন্দু বৌদ্ধ বেষ্ঠিত   পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি মুসলমানদের।  পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকের দুঃশাসন  থেকেও  পূর্ব পাকিস্তান ব্যস্ত ছিল নিজেদের বাঁচাতে। সুফি ইসলামের তখনও রেশ ছিল বলে মুসলমানিত্বের চেয়ে বাঙালিত্ব বড় ছিল বাঙালি মুসলমানদের কাছে। একাত্তরের পর যখন সেনাবাহিনীর লোকেরা শাসন করতে শুরু করলো দেশ, মৌলবাদী ইসলামকে তারা বেশ সোহাগ করে  বড় আসন পেতে দিল বসতে, ননীটা ছানাটা খাইয়ে নাদুস নুদুস করলো,  আর সত্যিকার নষ্ট হতে থাকলো তখন  দেশ। মৌলবাদী  ইসলামে দেশ ছেয়ে গেলে বাঙালি পরিচয়ের চেয়ে অনেক বড় হয়ে ওঠে মুসলমান পরিচয়, বাংলা ভাষার চেয়ে মূল্যবান হয়ে ওঠে আরবী ভাষা, হৃদয়ের চেয়ে পবিত্র হয়ে ওঠে মক্কা মদিনা। আমি মনে করি না ভালোবেসে কেউ তখন আরবীয় সংস্কৃতিকে নিজের সংস্কৃতি বলে গ্রহণ করে। ভয়ে গ্রহণ করে, আল্লাহর ভয়ে, দোযখের ভয়ে। ইসলামের জন্মভূমির সব কিছুকে অনুকরণ করে দোযখের আগুন থেকে যদি  বাঁচা যায়, চেষ্টা করে। মানুষ তখন বিভ্রান্ত। একগাদা রূপকথাকে সত্যি বলে ভেবে নিলে অপ্রকৃতস্থের মতো  আচরণ তো করবেই। দোকানপাটে তো ঝুলবেই শত শত রেডিমেইড বোরখা।   কালো কাপড়ে ঢেকে  দেওয়া হবে  মেয়েদের নাম পরিচয়, মেয়েদের অস্তিত্ব। মেয়েরা তখন শুধু  জম্বি, ওয়াকিং ডেড, ফেসলেস।  শুধুই 'নো-বডি', কেউ নয়। দুঃখ এই,  এইটুকু বোঝার ক্ষমতাও মেয়েরা হারিয়ে ফেলছে যে বোরখা তাদের 'কেউ' থেকে 'কেউ নয়' বানিয়ে ফেলে।  


বোরখার বিরুদ্ধে    বলেছেন বলে  মিতা হককে নাকি লোকেরা খুব গালি গালাজ করছে। যে পুরুষগুলো    বলে বোরখা খুব ভালো পোশাক, সুন্দর পোশাক, চমৎকার পোশাক, ওই পুরুষগুলো কেন বোরখা পরছে না কেউ জিজ্ঞেস করেছে? কেউ কেন  ওদের জিজ্ঞেস করছে না, ‘বোরখা যদি অত ভালো পোশাক, তাহলো তোরা বোরখা পরছিস না কেন? দু'দিন ভালো পোশাকটা  প'রে দেখ না  কেমন ভালো  লাগে!’ ?  

  ব্যক্তিগত কিছু ঈর্ষা-জনিত কারণে তাঁর স্ত্রীদের জন্য  বোরখার প্রচলন শুরু করেছিলেন পয়গম্বর। বেশ ছিল। হঠাৎ কী মনে হল কে জানে,  বলে দিলেন সব মুসলমান মেয়েকেই এখন বোরখা পরতে হবে।   চৌদ্দশ বছর আগে যে কারণেই মুসলমানদের মধ্যে বোরখার চল শুরু হোক না কেন, এখন এই একবিংশ শতাব্দিতে মেয়েদের বোরখা পরার  পেছনে কোনও যুক্তি নেই। সত্যি বলতে কী, বোরখা   মেয়েদের কাজে লাগে না, লাগে পুরুষের কাজে। বোরখা আসলে পুরুষের পোশাক,  চোর ডাকাত খুনী পুরুষের পোশাক। পুরুষেরা যখন চুরি ডাকাতি করে, খুন করে, বোরখা পরে নেয়। এতে ওদের  সুবিধে হয় বেশ,  কেউ চিনতে পারে না।  চোর ডাকাতের পোশাককে ধর্মের নামে মেয়েদের গায়ে চাপানোর কোনও মানে হয়? 

16 comments:

  1. ‘বোরখা যদি অত ভালো পোশাক, তাহলো তোরা বোরখা পরছিস না কেন?’
    এর জবাবে হাদিস ঘাঁটবে মডারেট সাপের দল। বলবে, ইহা সহি ইসলাম নহে !

    ভিডিওটা আগেই দেখা ছিল। অনেকেই এটা আপলোড করেছেন। নীচের মন্তব্যগুলো পড়ে বেজায় মাথা খারাপ ! জঘন্য জঘন্য সব মানসিকতার লোকেরা ধর্মকর্ম করে, পরহেজগারির দোহাই দিয়ে থাকে। সব শালাই পারভার্ট!
    বাংলাদেশের "ছাগু", প্রগতিশীলতার মুখোশ পরা ছুপা ছাগু সবার তলপেটে ক্যোঁৎ করে পাদপ্রহার করেছে মিতা হকের কথাগুলো। বাংলাদেশে প্রয়াত হুমায়ুন আজাদের মতো নাস্তিক থাকলেও অবিশ্বাসীর চরম একটা স্ট্যান্ডার্ড বোঝাতে তসলিমা নাসরিনের নাম নেওয়া ধার্মিক শুয়োর ছানাদের কাছে ফরজ। গু-মাখা মানসিকতার মোল্লারা তো বটেই, বহু আচোদা মডারেট মুসলমানরা এখনো তেড়েফুঁড়ে উঠেন এই ব্লগারের নাম উচ্চারণে। মহিলা বলেই তাদের পুরুষ ইগোতে ছ্যাঁত করে ওঠে আপনার নাম।
    জামাতকে নিষিদ্ধ করা হল বটে, কিন্তু রক্তবীজরা যাবে কই? বাংলাদেশের এই বোরখা ফেটিশ সত্যিই আশংকাজনক।

    ReplyDelete
    Replies
    1. Taslimadi,tomar ei lekhatar mul boktobyo to NIRBACHITO KOLAM er mul boktobyer sathe ek ;ba tomar onyanyo lekhagulor motoi. lekhok er thekeo amar mone hoy tomar SOMAJSONSKAROK sotwata besi probol............tai aj o tomay desh chhere ghor chhere lukiye thakte hochhe. BORKHA amra SARA PRITHIBIR 'SUSHO(!)' O 'SIKKHITO O JUKTIBADI (!)' MANUSHERA POREI ACHHI. CHOKHEO THULI. noyto ei EKUSH SHOTOKEO PRITHIBITE DHORMO,BORNO,ROKTO,JAT,PAT niye POWER POLITICS CORRUPTION er ki bisri TRIANGLE NEXUS! Borkha sobbai pore achhi,ami tumi sobai.............

      Delete
    2. @নাটের গুরু আলাপ করতে চাই । ই মেইল আইডি কি পেতে পারি ? Mine is sarita.ahmed2@gmail.com

      Delete
    3. আপু আপনার কাছে একটা আবদার আছে। আমি আপনাকে একবার চুদতে চাই। আমার হোল অনেক বড় আর খুব মোটা। আপনাকে চুদলে আপনার খুব আরাম লাগবে। আমি খুব ভালো গুদ চুষতে পারি। আপু আপনার গুদ চুষে আপনাকে চরম সুখ দেব। আপনি একবার আমাকে চোদার সুযোগ দিন প্লিজ।

      Delete
    4. খানকির পোলা তোমার মায়েরে চুদবো আর তোমার বোনের গুয়া মারবো। তোমার মা একটা বেশ্যা আর তোমার বোন একটা লোটি মাগী ছেনাল মাগী। আমি এখন তোমার মায়ের গুদে হোল ভরে বসে আছি। তোমার মাকে চুদতে খুব মজা। তুমি কি কখনোও তোমার মাকে চুদেছিলে? না চুদলে আজকেই চোদ। তোমার মতো বেজন্মা তার নিজের মাকে চুদে জব্বর মজা পাবে।

      Delete
  2. Replies
    1. খানকির পোলা তোমার মায়েরে চুদবো আর তোমার বোনের গুয়া মারবো। তোমার মা একটা বেশ্যা আর তোমার বোন একটা লোটি মাগী ছেনাল মাগী। আমি এখন তোমার মায়ের গুদে হোল ভরে বসে আছি। তোমার মাকে চুদতে খুব মজা। তুমি কি কখনোও তোমার মাকে চুদেছিলে? না চুদলে আজকেই চোদ। তোমার মতো বেজন্মা তার নিজের মাকে চুদে জব্বর মজা পাবে।

      Delete
  3. Prathamei to akta prashno, Mahammad ki adopei kono Paygambar??

    ReplyDelete
    Replies
    1. keu ki nije theke 'Hit film'/'Flop film'/'Celebrity' hoy? seta media banay.. Mohammad er somoy mediar daitto niyecchilo Jibrayil naame ek feresta (angel)..tarpor Islamization shuru. Md.er 'paygamber' howao shuru..

      parthokko etai : ajker Media tar chehara somoy onujayee bodlaleo Islamist ra kintu bodlay ni.. ar kauke 'celebrity' banaloi na shaalaa ra !!!

      Delete
    2. আপু আপনার কাছে একটা আবদার আছে। আমি আপনাকে একবার চুদতে চাই। আমার হোল অনেক বড় আর খুব মোটা। আপনাকে চুদলে আপনার খুব আরাম লাগবে। আমি খুব ভালো গুদ চুষতে পারি। আপু আপনার গুদ চুষে আপনাকে চরম সুখ দেব। আপনি একবার আমাকে চোদার সুযোগ দিন প্লিজ।

      Delete
  4. বোরখা মেয়েদের নয়, পুরুষের লজ্জা !! এই লাইনটা যুগান্তকারী হয়ে থাকবে, যদিও এর সত্যতা নিয়ে এখন ব্যপক ক্যাঁচাল হবে, কিন্তু ১০ বছর পরে নব্য-মুক্তচিন্তকরা এটাকেই ট্যাগ লাইন বানিয়ে লেকচার দেবে...তসলিমা নাসরিনের সাথে এমনটাই হয়ে আসছে ১৬ বছর যাবৎ !

    সুফি ধর্ম সত্যি একটি ঐতিহাসিক প্রতিবাদী-ধর্ম আন্দোলন হিসেবে স্কুলপাঠ্য, ছাত্র-ছাত্রীরা কিন্তু এর কোনও জীবন্ত দৃষ্টান্ত পায় না উদাহরণ হিসেবে , কারন সে জিনিসের অনুগামীরা এখন মৃত। ভারত এখন স্রেফ মৌলবাদ-তোষক ইসলাম কেই চেনে, মানে, ভয়-ভক্তি করে, একমাত্র সত্য বলে বিশ্বাস করে । তাই মৌলবাদী-শরিয়তি নিয়মগুলো মেনেও চলে কারণ সেগুলো ধর্মব্যবসায়ীরা লালন করে চলেছে নিজেদের স্বার্থে যুগ যুগ ধরে। মানুষ (মেয়েরা ও তাদের গার্ডিয়ানরা) ওদের গুরু বলে মানে (কিছুটা ভক্তির আতিশয্যে, বেশিরভাগ টাই ভয়েঃ পাপের, দুর্ভাগ্যের, তালাকের ) তাই বোরখা নামক 'চলন্ত কফিন'কেই একমাত্র 'আবরণ' বলে মেনে নেয় । আমাদের কলেজেও দেখেছি বাড়ির শাসনে মেয়ে বোরখা পরে আসছে, কমনরুমে তা পালটে ফেলে জিন্স-শার্ট পরছে, দিনের শেষে আবার কফিন-বন্দি হয়ে গাড়ি চেপে বাড়ি যাচ্ছে !

    আর বাঙালি পরিচয়? ওটা তো ইতিহাসের সিলেবাসেও বাদ পড়েছে নিউ সেশনে !
    প্রশ্ন --- "সখী, বাঙালি কাহারে কয়?"

    উত্তর --১) যাঁহারা FM Radio contest এ 'বঙ-না-বাঙ্গালী' খেলায় ৫টি বাক্য স্রেফ বাংলায় ঠিক ঠিক বলতে পারে । (আদেখলামো !)
    ২) যাঁহারা আরেকজন পরিচিত বাঙালির প্রোমোশন দেখে লাল ফেলে আর ভাবে আহ, ওকে কি করে প্যাঁচে ফেলা যায় (কাঁকড়া জাত !)
    ৩) যাঁহারা 'ব্রাক্ষন-ভিকিরি' হিসেবে জীবন কাটাতে ততটা কুন্ঠাবোধ করে না, যতটা করে 'ব্যবসায়ী' পরিচয়ে (অন্ধ আর্দশবাদী !)
    ৪) যাঁহারা যদিও ব্যবসায়ী হয় , দোকানে লেখেন "আমাদের কোনো শাখা নেই !"(ব্যবসা বাড়াতে পারেনি , সেই লজ্জা ঢাকার আপ্রান চেষ্টা ! কেন বে, কে বারণ করেছিল শাখা খুলতে? ) (ভন্ড-অহংকারী !)
    ৫) যাঁহারা মুখ খোলার সুযোগ পেলেই রবীন্দ্রসংগীত গান, আর পেটে বারোমাস আমাশয়ে ভোগেন ! (আজন্ম হ্যাংলা !)

    ReplyDelete
    Replies
    1. মাগী ছেনাল মাগী, তুই বাঙালিকে অপমান করেছিস কেন? বাঙ্গালী জাতি কেমন তা বলার তুই কেরে বেশ্যা মাগী। তুই একটা পাকা খানকি। তোর গুদে ভিতর কাঁচা ও শুকনো লঙ্কা মিশ করে ঢুকায় দিব।

      Delete
    2. খানকির পোলা তোমার মায়েরে চুদবো আর তোমার বোনের গুয়া মারবো। তোমার মা একটা বেশ্যা আর তোমার বোন একটা লোটি মাগী ছেনাল মাগী। আমি এখন তোমার মায়ের গুদে হোল ভরে বসে আছি। তোমার মাকে চুদতে খুব মজা। তুমি কি কখনোও তোমার মাকে চুদেছিলে? না চুদলে আজকেই চোদ। তোমার মতো বেজন্মা তার নিজের মাকে চুদে জব্বর মজা পাবে।

      Delete
  5. সুফি ইসলাম সম্পর্কে আরও জানার কোন সোর্স দিতে পারেন?

    ReplyDelete
  6. হাঁ,এটা ঠিক যে বোরখা পরাটা বা পরানোটা একটা অসভ্যতা ছাড়া কিছুই নয় । তবে নগ্নতা বা যৌনাঙ্গ পরিদর্শন করানোটা তো আরো বড় একটা আদিম অসভ্যতা ও জঘন্যতা ছাড়া কিছুই নয় ! নারীদের বাঁধন-ছাড়া স্বাধিকার-বোধের সাথে পালা দিয়ে যদি পুরুষেরাও তা শুরু করে দেয়, তাহলে তো পশু আর মানুষের মধ্যে কোনো ফারাক থাকবে ন। বোরখা, ঘোমটা ...এগুলোকে যেমন কোনো সুস্থ মানসিকতার মানুষের দ্বারা সহ্য করা সম্ভব হয়ে ওঠে না তেমনই ঠিক ওই পরিপূর্ণ বা উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ভাবে অর্ধ-নগ্নতাকেও কোনদিনই সমর্থন করা যুক্তিসঙ্গত নয়।

    ঈশ্বর বা প্রকৃতির তরফ থেকে নারীদের যেমন কিছু বিশেষ অঙ্গ পুরুষদের মতিভ্রান্ত করার জন্য অস্ত্র-স্বরূপ ব্যবহার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, পুরুষদেরও তেমনই কিছু আদিম বর্বর প্রবৃত্তির সাধনে শক্তি-প্রয়োগের অধিক ক্ষমতা প্রদান করা হীয়য়েছে। ...সুতরাং সততা ও ব্যবহারিক বাস্তবসম্মত কিছু বিধি-বিধান ও আচার সংহিতার প্রয়োজনকে অস্বীকার করে কোনো দাবি রাখলে তাতে মানব-সভ্যতার বুনিয়াদটাই ভেঙ্গে চুরে চুরমার হয়ে যাবে।

    অসভ্য, বর্বর, অনুন্নত,অসংস্কৃত,মুর্খ, আরববাসীদের জন্য পয়গম্বর হজরত মুহাম্মদ সাহেব যা-কিছু করেছিলেন তা সময়-সাপেক্ষে সবকিছুই অতি উত্তম ছিল । প্রশ্নটা শুধু এটাই থেকে যায় যে, সেইসব বিধি-বিধান ও নীতি-নিয়ম গুলো সর্বদেশে সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য কিনা। স্থান-কাল-পাত্রের যথার্থ বিচারে মুহাম্মদ সাহেবের সমস্থ নির্দেশই ছিল পরিপূর্ণ যথার্থ। ...পরবর্তী কালে সেগুলোতে অনেক কিছু সংযোজন-বিয়োজন করে ক্রমান্বয়ে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছে। ...এর জন্য দায়ী মুসলিম সমাজ ও তাদের পেটোয়া মৌলভিরা। নবীকে এর জান্য কোনমতেই হাই করা যেতে পারে না। ... ...

    ReplyDelete
  7. খানকির পোলা তোমার মায়েরে চুদবো আর তোমার বোনের গুয়া মারবো। তোমার মা একটা বেশ্যা আর তোমার বোন একটা লোটি মাগী ছেনাল মাগী। আমি এখন তোমার মায়ের গুদে হোল ভরে বসে আছি। তোমার মাকে চুদতে খুব মজা। তুমি কি কখনোও তোমার মাকে চুদেছিলে? না চুদলে আজকেই চোদ। তোমার মতো বেজন্মা তার নিজের মাকে চুদে জব্বর মজা পাবে।

    ReplyDelete