Sunday, 18 August 2013

শেষ চুম্বন




ধরা যাক মেয়েটির নাম মেয়ে আর  ছেলেটির নাম ছেলে।
সেই যে কোত্থেকে উড়ে এসে ছেলেটি হঠাৎ চুমু খেয়েছিল,
হঠাৎ মেয়েটিকে অবাক করে অবশ করে,
কোনও প্রেম ছাড়া,  কাল দেখা হচ্ছে বা পরশু আসছি ছাড়া,
সেই যে গভীর করে চুমু খেয়েছিল, সেই যে চুরমার করে, টুকরো টুকরো করে,
সেই যে ভেঙে, ছিড়ে,
এক ঘর আলোয়, 
সেই যে মেয়েটিকে আচমকা ডুবিয়ে ভাসিয়ে  চুমু খেয়েছিল,
ছেলেটির তারপর থেকে দেখা নেই আর। 

মেয়েটি জানে না ছেলেটি কে, কোথায় বাড়ি,  শুধু চোখদুটো দেখেছিল,
চোখদুটোয়  দুটো মার্বেল ছিল, যেন ছোটবেলার খেলার মাঠে পড়ে থাকা দুটো ঝকঝকে মার্বেল, 
এত হুড়মুড় করে কৈশোর আসেনি দীর্ঘদিন,  
কারও চোখের চাওয়ায়   উতল হাওয়াও এত ছিল না কোনওদিন..
হঠাৎ চমকে উঠে মেয়েটি বলে, ছেলেটি কি সেই ছেলে?
নিজেকেই তারপর বারবার বলে,  ছেলেটি তো সেই ছেলে যে ছেলে ঘুরন্ত লাটিম এনে হাতের  তালুতে দিত প্রতিদিন! যতক্ষণ লাটিম ঘুরতো তালুতে,  মনে হতো পুরো জগত তার  হাতের মুঠোয়। 
মেয়েটির   শিরশির করতো শরীর, ছেলেটি মুগ্ধ চোখে দেখতো, খেলার মাঠে পড়ে থাকা 
মার্বেলদুটো থেকে আলো ছিটকে এসে পড়তো সেই চোখে, 
দুটো মার্বেল চোখ ছিল সেই মুগ্ধ চোখে। 


ছেলেটি তবে কি সেই খেলার মাঠের ছেলে, এই চুমু খাওয়া ছেলে?
ছেলেটি তবে কি ঘুরন্ত লাটিম ছেলে? এই হঠাৎ আচমকা চুমু খাওয়া ছেলে?
কোনওদিন আবার আসবে কি না সে, আবার চুমু খাবে না কি না, মেয়েটি জানে না
মেয়েটি জানেনা, সে রাতে আর কোথাও চুমু খাওয়ার কেউ ছিল না বলে 
ছেলেটি চুমু খেয়েছিল, হাতের কাছে যাকে পেয়েছিল  খেয়েছিল,
ঝড়বৃষ্টির রাতে, নির্জন রাতে, সাত পাঁচ না ভেবেই খেয়েছিল।
পরদিন  নেশা   কেটে গেলে ছেলেটি ভুলেও গেছে খেয়েছিল



মেয়েটির স্বামী এসে সপ্তাহান্তের  সঙ্গম সেরে যায়, স্বামী চুমু খেতে গেলে মুখ ঠোঁট সরিয়ে নেয় মেয়ে, এই শরীর দিচ্ছি নাও, সঙ্গমে সারাদিন মেতে থাকো, সারারাত থাকো, চুল থেকে পায়ের নখ অবধি চাখো চোষো,  শুধু চুমুটা খেও না।   

শেষ চুম্বনের স্মৃতি টুকু বাঁচিয়ে রাখে মেয়ে।


ওই চুমু তার হাতের মুঠোয় গোটা একটা জগত দেয়।
ওই চুমু তাকে এক ঝাঁক কৈশোর দেয়,
ছেলেটির চেয়ে বড় হয়ে উঠতে থাকে ছেলেটির চুম্বন,
চুম্বনের চেয়ে বড় হয়ে উঠতে থাকে মেয়েটির কৈশোর।
কৈশোরের চেয়ে বড় হয়ে উঠতে থাকে কৈশোরের স্বপ্ন।
স্বপ্নগুলো হিরের মতো,  ঠিকরে বেরোতে থাকে আলো। সেই আলোয় ঝাপসা হয়ে যেতে থাকে
মার্বেল চোখের ছেলে, তার প্রতিরাতের নেশা, তার যাকে তাকে চুমু খাওয়া,
তার ভুলে যাওয়া, তার না আসা। 



15 comments:

  1. হৃদয় ছুঁয়ে গেল। কিছু পাওয়া এমনই হয় যার ওপর আমরা lamination করে নিতে চাই। যা আমার ঐকান্তিক তা হারিয়ে ফেলতে চাই না। কারোর সাথে ভাগ করে নিতে মন চায় না। এরকম আরও অনেক কবিতা আপনার কাছ থেকে আশা করি।

    ReplyDelete
  2. osadharon! darun darun! amar o erokom ovigyota hoyeche. vese gechi khor kutor moton! tar porer bastob ta khub rirho chilo. tobuo sritita jol jol kore aj o!

    ReplyDelete
  3. কেন যেন পড়াটি পড়ে মনে শিহরণ জাগে, ইচ্ছে হচ্ছে চলে যাই তাহার কাছে যাকে আজীবন মনের অজান্তে ভাললাগা থেকে ভালবাসি, তাকে কাছে পাওয়ার পরম আগ্রহ হচ্ছে।

    ReplyDelete
  4. "চুম্বনে তোমার লালা থেকে চুষে নিই সংক্রামক ব্যাধি,
    তোমাকে আরোগ্য করি,
    তোমাকে শুশ্রূষা করি,
    তোমাকে নির্মান করি আমার বিনাশে ।
    জীবন বলতে এখনো তোমাকে বুঝি,
    মৃত্যু বলতেও আমি এখনো তোমাকে ।"

    "তুমি যদি ভালোই বাস আমাকে, ভালোই যদি বাসো,
    তবে বলছ না কেন যে ভালোবাস !
    ...আমার কানের কাছেই যত তোমার দুঃসাহস !
    ...পাড়া-পড়শি বলুক, হাট-বাজারের লোক বলুক, পুকুরঘাট বলুক, পুকুরের জল বলুক যে
    তুমি ভালোবাস আমাকে !
    শুনতে শুনতে যখন আর তিষ্ঠোতে না পারব, তখন তোমাকে ওই চৌরাস্তায় তুলে
    একশ লোককে দেখিয়ে চুমু খাব, যা হয় হবে !
    ভালবাসা কি গোপণ করার জিনিস ! দেখিয়ে দেখিয়েই তো,
    শুনিয়ে শুনিয়েই তো ভালোবাসতে হয় ।"


    তসলিমা দিদি, তোমার এই লাইনগুলো আমায় আমূল কাঁপায় অনেক ঘুম-না-আসা রাতে । আঁধারের বুকে হাত রাখি, ঠোঁট খুঁজে নেয় পাশবালিশ । প্রেম ডুকরে মরে ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. কী যে ভালো লিখেছো!

      Delete
    2. sotti e khub bhalo laglo. specially last para- (মেয়েটির স্বামী এসে সপ্তাহান্তের সঙ্গম সেরে যায়, স্বামী চুমু খেতে গেলে মুখ ঠোঁট সরিয়ে নেয় মেয়ে, এই শরীর দিচ্ছি নাও, সঙ্গমে সারাদিন মেতে থাকো, সারারাত থাকো, চুল থেকে পায়ের নখ অবধি চাখো চোষো, শুধু চুমুটা খেও না।




      শেষ চুম্বনের স্মৃতি টুকু বাঁচিয়ে রাখে মেয়ে।)

      Delete
    3. "শেষ ছুম্বনের স্মৃতি টুকু বাঁচিয়ে রাখে মেয়ে।"
      Taslimadir prabandher ai linetukur prekhite amar bakti jiboner chotto ghatona.........................................

      "" প্রথম যৌবন এ প্রথম আঘাত। ""

      ভুলবুঝে তুমি বাড়ির দেখা পর পুরুষের সাথে বিয়ে করে চলে গেলে ।
      কোনোদিন কি আমায় দেখনি? Tuition এর দিন গুলি ওই রকম মুগ্ধ প্রেমিকের মত চেয়ে থাকা,
      কোনোদিন কি শুননি অন্তরের কাকুতি-মিনতি? কোনোদিন কি বঝাতে পারিনি আমার জীবন অর্ঘ,
      তোমার পায়ে অঞ্জলি দিতে কত ব্যাকুল?---- তুমি চলেগেছ তাই পেয়েছি জীবনের মানে, তুমি নেই তাই রেখে গেছ অনন্ত স্নিগ্ধতা । যখন তুমিছিলে আশা ছিল, লক্ষ্য ছিল; Math Honourse
      complete করে M.Sc complete করে কোন এক চাকরি করে তোমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেব ।
      আজ তুমি নেই, নিজের রুমে কত রকমারি গাছের টব সাজিয়ে রেখেছি, তখন ছিল M.H. complete এর ইছে, এখন B.Tech complete করেছি। আজ বুঝেছি তখন তুমি আমাকে করুনা করতে ভালবাসতে পারতে না, আজ আমি কোন নারির করুনাতে বেচে নেই। কিছু বছর চাকরি করেছিলাম, এখন চাকরির দাসত্য কেও ঘৃণা করি। আজ জীবন আমার কাছে গদ্যময় , পদ্যময় সুখ দুঃখ এর মিলন বিন্দুর অপারে। ৩৪ বছর কেটে গেল, কত যে নতুন কত পুরান হয়েগেল, আবার নতুন রা এসে ডাকদেয়, স্নেহভরে নবীন দের বরন করেনেই, এই তো এগিয়ে চলেছি............।।

      Delete
  5. This comment has been removed by the author.

    ReplyDelete
    Replies
    1. This comment has been removed by the author.

      Delete
  6. This comment has been removed by the author.

    ReplyDelete
  7. This comment has been removed by the author.

    ReplyDelete
  8. শেষ চুম্বনের স্মৃতি টুকু বাঁচিয়ে রাখে মেয়ে amader chinta gulo sob sorir ghery,,,,, ki aschorjoh ! ekta jibon sudu sorir neyai vabtey hoi!

    ReplyDelete