Wednesday, 17 July 2013

এক অপ্রেমিকের জন্য



এই শহরেই তুমি বাস করবে,  কাজে অকাজে দৌড়োবে এদিক ওদিক
কোথাও আড্ডা দেবে অবসরে, মদ খাবে, তুমুল হৈ চৈ করবে,
রাত  ঘুমিয়ে যাবে, তুমি ঘুমোবে না।
ফাঁক পেলে  কোনও কোনও সন্ধেয় এ বাড়ি ও বাড়ি খেতে যাবে, খেলতে যাবে,
কে জানে হয়তো খুলতেই যাবে আলগোছে কারও শাড়ি
আমার আঙিনা পেরিয়েই  কোনও বাড়িতেই  হয়তো
এ পাড়াতেই হয়তো দু’বেলা হাঁটাহাঁটি করবে,  হাতের নাগালেই থাকবে,
হয়তো কখনও জানিয়েও দেবে আমাকে, যে, কাছেই আছো,  
কুঁকড়ে যেতে থাকবো, কুচি কুচি করে নিজেকে কাটতে  থাকবো
দেখা না হওয়ার যণ্ত্রণায়,  তবু বলবো না, এসো। বলবো না,
তোমাকে সুযোগ দেব না বলার যে তোমার সময় নেই, বা ভীষণ ব্যস্ত তুমি ইদানিং
 তোমার  অপ্রেম থেকে নিজেকে বাঁচাবো আমি।  
তোমার সঙ্গে  আমার দেখা হবে না।


বছর পেরোবে, তোমার সঙ্গে দেখা হবে না আমার,
দেখা না হতে না  হতে ভুলতে থাকবো তোমার সঙ্গে দেখা হওয়াটা ঠিক কেমন ছিল
কী রঙের সার্ট পরতে তুমি, হাসলে তোমাকে ঠিক কেমন দেখাতো,
কথা বলার সময় নখ খুঁটতে, চোখের দিকে নাকি অন্য কোথাও তাকাতে,
পা নাড়তে, ঘন ঘন  চেয়ার ছেড়ে উঠতে, জল খেতে কিনা, ভুলতে থাকবো।
দেখা  না হতে না  হতে ভুলতে থাকবো তুমি ঠিক দেখতে কেমন ছিলে,
তিলগুলো মুখের ঠিক কোথায় কোথায় ছিল, অথবা আদৌ ছিল কিনা।
তোমার চুমু খাওয়াগুলো ঠিক কেমন, জড়িয়ে পেঁচিয়ে চুলে বা বুকে  মুখ গোঁজাগুলো
 ঠিক কেমন, ভুলতে থাকবো।


অনেকগুলো বছর পেরিয়ে যাবে, তোমার সঙ্গে   আমার আর দেখা হবে না।
এক শহরেই, অথচ দেখা হবে না।
পথ ভুলেও কেউ কারও পথের দিকে হাঁটবো না,
আমাদের অসুখ বিসুখ হবে, দেখা হবে না।
কোনও রাস্তার মোড়ে কিংবা পেট্রোল পাম্পে কিংবা  মাছের দোকানে,  বইমেলায়, রেস্তোরাঁয়, কোথাও দেখা হবে না।



আরও অনেকগুলো বছর পর, ভেবে রেখেছি, যেদিন হুড়মুড় করে  
এক ঝাঁক আলো নিয়ে সন্ধে ঢুকতে থাকবে আমার নির্জন ঘরে,
যেদিন  বারান্দায় দাঁড়ালে  আমার আঁচল উড়িয়ে নিতে থাকবে বুনো বৈশাখি
এক আকাশ চাঁদের সঙ্গে কথা বলবো যে রাতে সারারাত--
তোমাকে মনে মনে বলবোই সেদিন, কী এমন হয় দেখা না হলে,
দেখা না হলে মনে হতো বুঝি বেঁচে থাকা যায় না,
কে বলেছে  যায় না, দেখ, দিব্যি যায়!
তোমার সঙ্গে দেখা হয়নি কয়েক হাজার বছর, তাই বলে কি আর বেঁচে ছিলাম না?
দিব্যি ছিলাম!
ভেবেছি বলবো,
তুমি তো আসলে একটা  কিছুই-না ধরনের কিছু,
আমার আকাংখা দিয়ে এঁকেছিলাম তোমাকে,
আমার আকাংখা দিয়ে তোমাকে প্রেমিক করেছিলাম,
আমার আকাংখা দিয়ে তোমাকে অপ্রেমিকও করেছি
তোমাকে না দেখে লক্ষ বছরও বেঁচে থাকতে পারি!
অপ্রেমিককে  না ছুঁয়ে, অনন্তকাল।
এক  ফোঁটা চোখের জল বর্ষার জলের মতো ঝরে ধুয়ে দিতে পারে
এতকালের আঁকা সবগুলো ছবি, তোমার নাম ধাম দ্রুত  মুছে দিতে পারে চোখের জল।
তোমাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।


আমাকে একা বলে ভেবো না কখনো, তোমার অপ্রেম আমার সঙ্গে সঙ্গে থাকে। 

9 comments:

  1. "কাছে যতটা পেরেছি আসতে, জেন
    দূরে যেতে আমি তারও চেয়ে বেশি পারি ।
    ভালোবাসা আমি যতটা নিয়েছি লুফে,
    তারও চেয়ে পারি গোগ্রাসে নিতে ভালোবাসাহীনতা......"
    ---- এই কবিতাটা আবারো মনে পড়িয়ে দিলো অনেকদিনের তোমার এই লাইনগুলো ।এই বাজারে প্রেম তো ফেসবুকের ফেক-অ্যাকাউন্টের মত মিলছে। কিন্তু ''ভালোবাসা কি আকাশে ওড়ে? হাত বাড়িয়ে ধরতে বল!" তাই সত্যি প্রেমিক খুজঁতে গিয়ে এসে পড়ি অপ্রেমিকের হাটে । সারা রাত এক আকাশ চাঁদের সাথে কথা বলতেই কেটে যায়, অপ্রেম এর আগুনে শরীর তাপিয়ে পার হয় কালো রাত,চাদর কুচকে আদর পেতে চাওয়া বুভুক্ষু মেয়ের নোনা জল যখন শুষে নেয় পাশবালিশ, প্রেমিকের নম্বর তখন পরকীয়ার কল-ওয়েটিং এ ব্যাস্ত...

    ReplyDelete
  2. OPremik bolte bangla konu shobdo ache bole jantam na. please shobdotir bakkha korle valo hoi. thanks

    ReplyDelete
  3. osadharon! tomar konbitar sathe amar govir prem ache. tai opremik der theke dure giye kobitar prem e dube thaki.´karo karor jonyo khub onyorokom lage´ tomar e kobita amai bhalolagai snan korai! tomar r o onek kobita asha korbo. bhalobasa.

    ReplyDelete
  4. Ki govir prem lukiye achhe protiti chhotre!
    Ak apremiker haate noshto holo...

    ReplyDelete
  5. আমি আপনার নামটা অনেক বছর আগে থেকে শুনে আসছিলাম কিন্তু আজ আপনার লেখা পড়তেছি আর আমার মনে আপনাকে আরও জানার চাইতেছে । এত বড় মাপে যিনি লিখেন ,যার অনেক কিছু দেওয়ার আছে এই সমাজে কিন্তু কেন উনি এই সমাজের বাহিরে?

    ReplyDelete
  6. tomar aprem amader eto kichhu dey, ja amader kachhe onek kichhu janar , sekhar o bhabar bishoy hoye daray,tai swarthoporer moton boli taslima tumi thako apreme e, ebong tate e bhalo theko tomar moton kore.

    ReplyDelete
  7. মেম তসলিমা নাসরিন আপনি কি চিন্তা করে দেখেছেন যে, যদি আপনি বা মেয়েরা যদি খাড়িয়ে পস্রাব করতে চান তাহলে তা দুরে যারে, আপনাদের পাক শরীর নাপাক হবে না। আর যদি আপনার মতে তা হয়, তাহলে মেয়েদের হিজাব নিয়ে যে উক্তি আছে তা আপনার মতের সাথে সাংঘষিক। তাই এমন কোন কথা বলবেন না যাতে দেখলে কোন পুরুষ বা পুরুষ জাতীর মনে লালসা এসে যাবে। কারন মেয়ে জাতীকে বিধাতা পর্দার মাঝে থাকতে বলেছেন। যদি আপনি তা পালন করেন দেখবেন আপনার সন্মান অনেক উপরে হবে।

    ReplyDelete