Saturday, 30 March 2013

বাংলাদেশ ২

 

 
ঠিক এরাই অথবা  এদের বাপ দাদারা ২০ বছর আগে একই  রকম লং মার্চ ডেকেছিল আমার শাস্তির দাবিতে।





 

সারা দেশ থেকে  লোক এসেছিল মানিকমিয়া এভিন্যূতে, তিন লক্ষ লোকের সভা। কী চাই? তসলিমার ফাঁসি  চাই। তসলিমা  নাস্তিক। ওর ফাঁসি না হলে    ইসলাম বাঁচবে না। দেশ জুড়ে কী ভীষণ তাণ্ডব চালিয়েছিল এরা! আর এদের সঙ্গে তাল মিলিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসা চরম এক মূর্খ মহিলা।   মূর্খদের কবলে দেশ  পড়লে এ-ই হয়, যা  হয়েছে আজ দেশ। 


 

বেশির ভাগ  শিল্পী সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবী বিদ্বৎজন তখন  কী করেছেন?  দূর থেকে দেখেছেন আমার ওপর আক্রমণ হচ্ছে। হয় মুখ বুজে থেকেছেন নয়তো  বলেছেন, ‘এসব তসলিমার ব্যক্তিগত ব্যাপার’।
সারাদেশের ধর্মান্ধরা  আমাকে জবাই করতে আসছে  আমার লেখা  পছন্দ হয় না বলে। আর এ  আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার? গুণীজনদের বক্তব্য,  দেশে কোনও মৌলবাদী নেই। আমি নাকি ইচ্ছে করেই ঝামেলা পাকিয়েছি। আমার ঝামেলা আমাকেই সামলাতে হবে, সাহায্যের জন্য কেউ এগিয়ে আসবে না।


এই ধর্মান্ধদের দুধ কলা খাইয়ে বড় করেছে দেশের ধুরন্দর রাজনীতিকরা। কাউকে কাউকে তো সংসদ সদস্য, এমনকী মন্ত্রীও   বানিয়েছিল।  






  আমি ইসলাম ধ্বংস করে ফেলেছি অথবা ফেলবো, ঠিক এরকম একটা অবস্থায় নাকি ছিল ইসলাম।  এক গরিব দেশের এক নিরীহ গোবেচারা মেয়ে, ডাক্তারি করে, আর মাঝে মাঝে লেখালেখি করে, সে নাকি   ১৪০০ বছর ধরে টিকে থাকা কোটি কোটি  লোকের  অন্ধত্বকে  কলমের একটা খোঁচা মেরে দূর করে দিয়েছে! এই ক্ষমতাটা যদি   সত্যিই আমার থাকতো, আমার চেয়ে সুখী কেউ হতো না। 



আমার বিরুদ্ধে   বিরাট বিরাট মিছিল, লং মার্চ, সভা, হরতাল নির্বিঘ্নে হয়েছে। না বাধা দিয়েছে সরকার, না আপত্তি করেছে বুদ্ধিজীবীরা। সেদিন যদি একশ’টা লোকও আমার পক্ষে মুখ খুলতো, আমার পাশে দাঁড়াতো, আমাকে নির্বাসনদণ্ড দিতে পারতো না সরকার।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখছি। এখন নাস্তিক ব্লগারদের ধরে ধরে জবাই করছে ধর্মের খুনীরা। বুদ্ধিজীবীরা কি ওদের নাস্তিকতা অস্বীকার করে বলবেন 'তওবা তওবা ওরা নাস্তিক নয়', নাকি সেই আগের মতো বলবেন, ‘এসব নাস্তিকদের ব্যক্তিগত ব্যাপার, ওদের ঝামেলা ওরাই সামলাক!’   ইতিহাস থেকে যদি শিক্ষা নিতে হয়, এখনই সময়। বুদ্ধিজীবীদের স্বার্থপরতা, ঈর্ষার শিকার আমি হয়েছি। মুক্তচিন্তক এই তরুণ ব্লগারদের যেন না হতে হয়। আজ দেশের মানুষের মুখ বুজে থাকা অথবা  ধর্মব্যাবসায়ীদের লম্ফঝম্ফের দোষ নাস্তিকদের দেওয়া মানে দেশের একশ’ বছর পেছনে ঠেলে দেওয়া।   আমাকে তাড়িয়ে যেমন   দেশকে একশ’ বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। হয়নি? না হলে আশির দশকে জাতীয় পত্র-পত্রিকায় ধর্মের এবং মুহম্মদের অবাধ সমালোচনা  করে যে লেখাগুলো আমি লিখেছি, তাতে এক নদী জল মিশিয়ে তরল করলেও আজ সেসব লেখা ছাপানোর কল্পনা অবধি কেউ করতে পারে না কেন?  


ধর্মের সমালোচনা না করে তুমি সভ্য হতে চাও?    এই  বিজ্ঞানের যুগে ধর্মের মতো আজগুবি রূপকথাকে সত্য বলে মেনে, স্বঘোষিত সব ঠগবাজ পয়গম্বরকে পথ প্রদর্শক  বলে মেনে  তুমি কচু সভ্য হবে। তোমার সভ্য হওয়া চুলোয় যাক,  ইসলামের আসল চেহারা চোখ খুলে যারা দেখতে পেয়েছে, যারা বেরিয়ে এসেছে, সেই আলোকিত তরুণ তরুণীদের গায়ে যদি আঁচড় লাগে আজ, এর দায় ওই চোখ বন্ধ করে রাখা অন্ধদের চেয়েও বেশি ‘সব বুঝেও না বোঝার ভান করা' বুদ্ধিজীবীদের, অদূরদর্শী রাজনীতিকদের আর ক্ষমতার আসনে বসা এক পাল ‘মুই যেন কী হনুরে’-দের।    
 

2 comments:

  1. সমাবেশ ডাকা টুপিধারী মূর্খদের চেয়েও বেশি ভয় নিরাপদ স্থানে অবস্থিত মূর্খদের নেতা 'সুশীল সমাজ' কে । এরা 'ওদের নিজেদের ব্যাপার','নিজেরা ঝামেলা পাকায়' ইত্যাদি মন্তব্যর আড়ালে মুখ ঢেকে থাকা শিক্ষিত শয়তান !আপাত দৃষ্টিতে প্রকৃত শিক্ষিত, বিজ্ঞানমনস্ক,প্রতিবাদী,নাস্তিক তরুন-তরুনীরা উগ্রপন্থী ধার্মিকদের অন্ধত্বের শিকার, কিন্তু আসলে এইসব কট্টরপন্থীরাও রাজনীতির গদি-লোভী অভিভাবকদের হাতের পুতুল । যে যেমন নাচায়, যার বিরুদ্ধেই নাচায়, এরা লেজ নাড়তে নাড়তে হাজির হয়..."আহ, তু! একটুকরো ধর্ম নিবি?" "চুক চুক!! আহ, একটা নাস্তিক-এর মাথা কাটবি?" ব্যাস! লেজ, থুড়ি! দাড়ি চুলকাতে চুলকাতে, সমাবেশে চললেন শত শত ধর্ম- ব্যবসায়ী ! ১৪০০ বছরের পুরোনো ইসলামকে বা আল্লাকে সাক্ষাত মৃত্যুর (উফ! সত্যি যদি এমন হত!!) হাত থেকে বাঁচাতে ঝাপিয়ে পড়লেই সোজা জান্নাত-টিকিট বুকড !এমন শর্টকাট রাস্তা কেউ ছাড়ে ?

    তসলিমা দিদি, তুমি হয়ত কলমের এক খোঁচায় ধর্মকে অক্কা দিতে পারোনি, কিন্তু বিশাল জগদ্দলটাকে নাড়িয়েই শুধু দাও নি, এক প্রচন্ড ফাটল ধরিয়ে দিয়েছ,এটা বলাবাহুল্য। তাই ত ওরা এত খেপেছিল । আজকের নতুন বিজ্ঞানমনস্ক শাহবাগী প্রজন্মের তুমিই তো পথ প্রদর্শক। তোমার ৮০-৯০ দশকের শুরু করা ধর্মীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই, আজ আবার জেগে উঠেছে তরুনের হাত ধরে। কিন্তু অন্ধত্বের বিকৃতি তো একইরকম আছে,তাই আবারো 'মাথা চাই'দাবী উঠেছে ।কিন্তু ওই যে, অক্কা না পেলেও আজকের এই বিপ্লবী-প্রজন্মের হাতে (কি-বোর্ডে/ব্লগে/কথায়/লেখায়/কবিতায়/ছন্দে/গানে/আলোচনায়/বিশ্বাসে) ইসলামের যে ICU প্রাপ্তি হয়েছে, তা তো ইতিহাসে খোদাই হয়েই গেল । তাই না?

    ReplyDelete
  2. Taslimadir replyta thik airakam debo bhabchilam, kintu amar mukher bhashsta Saritadi nijei diye diyechen. subash Saritadi je pranjal vabe bastab satyatake likhe diyechen,, ami aktu add kartechai, BD akta feedom country, kintu WB to nay, okhane dharmandha muslimra hinduder marle, akhon sara bisyer sabai jantepare, kintu WB te adrishya muslim moulobadi santrash cholche, tai akhane sadharan hindura (jara konodin o kono charchay thakena) atistho haye utche.. ki cpm ki tmc amon ki akhankar bjp er mato (baki political namgulo debar pryojan nai bale dilamna(akhon abar natun oxygen peyeche "Sidhikulla choudhuri"- jamiot er rajnaitik dal)) sab rajnaiti dal e muslim( koran hadish er bangla mane jane kinai sandheha) vote pabar ashay prakrita satyi k ki sundar aral kare jache... ami dhormer sapakhe-bipakhe kichu bolte chaichina, balte chaichi dhormer (-ve)renatyak dik guli k bhujhiye kichu manush k jantu tairi karar birudhe, ete karo kichu upokar habekina janina, tabe manusher dhairjer o akta sima thake....ghotona na ghotuk, kintu ai tradition jodi continue chaltei thake, tabe WB o Gujrater mato riot hate ar besidin baki nai. akta Taslima k tariyedile kingba kayekta hindu sangathan er neta-netrider jail a pattiye dilei dirghadin jamano hinduder khob-rag sedin theme thakbena,,, sedin sab bangali dharmonirapekha (dharmandha muslimder pakhe katha bollei jeta haoya jay) budhijibider o shodh dite habe... Bangalir sabhata-sangskritir pataka jeno sedin lakha-lakha manusher shob er upore na ure.......

    ReplyDelete