Wednesday, 12 December 2012

মালকোষ



ছোটবেলায় খুব রেডিও শুনতাম। গান, শ্রুতি নাটক, অনুরোধের আসর - এসবরেডিও বন্ধ করতাম খবর অথবা খেয়াল  শুরু হলে। খেয়াল সাধারণত হত মধ্যরাতের দিকে। অত রাতে রেডিওতে খেয়াল যারা  শোনে তারা ঠিক কী জাতের মানুষ, আমার জানতে ইচ্ছে করতো।
  
বড়বেলায় একদিন খেয়াল করলাম, রাত জেগে মুগ্ধ হয়ে আমিই  শুনছি খেয়াল। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত যে প্রাণের কোথায় ঢুকে অনুভূতির কোন তারগুলো নিঃশব্দে বাজিয়ে দেয় আর তার পর পরই কোথায়  যে  কিসের   উৎসব শুরু হয়, আজও ঠিক বুঝতে পারি না।

একবার গিটার শিখতে শুরু করলাম। গিটারের গুরু আমাকে মালকোষ   বাজাতে  বললেন।  ছ’মাস চেষ্টা করেও শুদ্ধ করে বাজাতে পারিনি। পারিনি, যদিও অন্তরে আমার অহোনিশি  মালকোষ কাঁদতো। গুরু বলে দিলেন, বাজনা আমার বাজাবার জন্য নয়,   নিভৃতে শোনার জন্য। গিটারে আর হাত দিইনি। রাতভর শুনে গেছি মালকোষ। সুখের সময়গুলোতেও আর কে পারে চোখের জল ঝরাতে, মালকোষ ছাড়া?

পণ্ডিত রবিশংকর কাল চলে গেলেন। কতকাল তাঁকে চিনি, জানি, শুনি! সবাই আমরা এক এক করে যাবো -  জেনেও কেউ চলে গেলে মন কাঁদে। আজ না হয় রবিশংকরের সেতারেই শুনি মালকোষ। দু’এক ফোঁটা জল যদি আজ ঝরেই চোখের, ঝরুক না!



2 comments:

  1. aaj shokaleo oNr Megh raag shunchhilam.. tokhono khobor ta paini... khub i kharap lagchhe... ki r bolbo..

    ReplyDelete
  2. Classical music সম্পর্কে জ্ঞান আমার নেই। আমি এর অ আ ক খ কিছুই জানিনা। তবু কেন জানিনা, এই সেতার এর ধ্বনি আমায় মুগ্ধ করে। যেন ফুল হীন গাছ থেকে ফুলের পাপড়ি ঝরে... আমার চারপাশে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ঝরে...।

    ReplyDelete