Monday, 10 December 2012

নতুন তিনটে কবিতা


*বেড়ালের সঙ্গে আত্মীয়তা 


যেভাবে বন্ধু গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে,  আত্মীয় সেভাবে ওঠে না গড়ে।
কাউকে  বেছে নিইনি কাকে আমি আত্মীয় চাই।   
জন্মের পর চোখ খুলে দেখি ভিড়, আত্মীয়দের ভিড়।
আত্মীয় অনেকে জন্মও নিল চোখের সামনে। আমি চাই বা না চাই, নিল।
ভালো বাসি বা না বাসি, তারা আত্মীয়।

খুব দুঃসময় আমার।
আত্মীয়রা এক এক করে ছেড়ে গেছে
ঘনিষ্ঠতা ছিল তারাও বছরের পর বছর গেছে,
একটু একটু করে ভুলতে ভুলতে পুরোটা ভুলেই গেছে, চলে গেছে,
যেদিকে গেলে ভালো হয় সেদিকে।

এর মধ্যে এক বেড়ালের সঙ্গে জানাশোনা হতে হতে,
দুপুরের রোদ পড়া উদাস বারান্দায় বসে, বিকেলগুলো খেলে, গুটিশুটি রাতে দু’জন,
এভাবে জীবন কাটাতে কাটাতে   ধীরে ধীরে  আত্মীয়তা গড়ে উঠছে,
বেড়ালও সে কথা জানে।

যত আত্মীয় আছে আমার, এসে এক পাশে দাঁড়াক,
বেড়াল দাঁড়াক আরেক পাশে,
আমি বেড়ালের দিকেই যাবো।
যত বন্ধু আছে, তারাও দাঁড়াক,
আমি তবু বেড়ালের দিকেই যাবো।
বন্ধুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়, চাইলেই আত্মীয়তা হয় না।
বেড়ালের সঙ্গে সব হয়।

আত্মীয় হিসেবে মানুষের চেয়ে বেড়াল ভালো।
মানুষ যে কোনও সময় লুটপাট করে চলে যাবে, বেড়াল যাবে না,
আঙিনায় বসে অপেক্ষা করবে,
যতক্ষণ না ফিরি করবে,
চোখ বেঁধে নদীর ওইপার ফেলে দিয়ে আসি,
পখ খুঁজে খুঁজে, গায়ের ঘ্রাণ শুঁকে শুঁকে, ফিরে আসবে।

বেড়ালরাও যায়, যেতে জানে।
তবে একবার আত্মীয়তা হয়ে গেলে
আত্মীয়দের মতো আর নিষ্ঠুরতা করে না।
ওপরে ওপরে বলেও বেড়ায় না যে ভালোবাসে,
কিন্তু বাসে, ভীষণ বাসে, বেড়ালের মতো লুকিয়ে চুরিয়ে ভালোবাসে। 
পা টিপে টিপে, কেউ যেন না দেখে, বেড়ালের মতো আসে সে.
ভালোবেসে আসে। কাছে। 
---



*একা

একা থাকতে থাকতে বদঅভ্যেস হয়ে গেছে
মানুষের ভিড় থেকে নিজেকে আলগোছে সরিয়ে একাই থাকি।
বেড়াল পুষতে পুষতে এখন বেড়াল দেখলেই পুষতে ইচ্ছে করে।

একা থাকা মেয়েরা  নাকি বেশ বেড়াল পোষে,
শুনেছি ওদের ঘরে সাদা বা কালো বা ছাই বা সোনালি রংএর বেড়াল
দুএকটা থাকেই,  গায়ে না চড়লেও, আহলাদ না করলেও,
থাকে ঘরের কোণে বা উঠোনে কোথাও,থাকে।
মেয়েরা নাকি হোঁচট খেতে খেতে, জলে বা কাদায় ডুবতে ডুবতে,
এখানে সেখানে পুড়তে পুড়তে এইটুকু জেনেছে,
পুরুষ পোষার চেয়েও বেড়াল পোষা ভালো।

আমারও কি বছরের পর বছর পুরুষ পুষতে পুষতে  মনে হয়নি কালসাপ পুষছি আসলে!

এত প্রাণী জগতে, পুষতে যদি হয়ই পুরুষ কেন! কথা শোনে, বোঝে, চোখে ভাষাও আছে,    কাছে আসে, ভালোবাসে, পাশে শোয়,
আচঁড়ায় না, কামড়ও বসায়না আচমকা,
রক্তাক্ত করে না, এমন কিছুকে দিব্যি পোষা যায়, নির্ভাবনায়।  
--- 


*সমুদ্র

কত কিছু দেখেছে জীবনে মা,
কত কলহ কোন্দল,
কত ঘৃণা,
কত স্বার্থপরতা প্রতিদিন।
কত কিছু মা’কে দেখতে হয়েছে,
কত গালাগালি, কত থুতু, কত লাথি ঝাঁটা!
সমুদ্রই দেখা হয়নি মা’র, কোনও একটা যেন তেন সমুদ্র।

কত কিছু শুনতে হয়েছে মা’কে,
কত মন্দ কথা!
কত কষ্ট পাওয়া, কত দুঃখ পাওয়া!
কত লজ্জায় মরে যাওয়া!
সমুদ্রের একটুখানি শব্দই শোনা হয়নি মা’র,


মা যদি একবার সমুদ্র দেখতে পেত!
একবার যদি মা সমুদ্র দেখতে পেত!
সমুদ্র যদি একবার প্রাণ ভরে দেখতে পেত মা!


বড় কিছুর  কাছে এলে বেদনাগুলো শুনেছি
একটু একটু উড়ে যেতে থাকে, ভেসে যেতে থাকে
হাওয়ায় বা স্রোতে বা চোখের জলে।

মা বেঁচেছিল অনেকগুলো বছর,
অনেকগুলো বছর মা বেঁচেছিল,
সমুদ্র কাছেই ছিল।



4 comments:

  1. লিখলেই কবিতা হয় না। আপনার আগের লেখার মান থেকে এগুলান অনেক নিন্মমানের।

    ReplyDelete
  2. Khub bhalo laaglo....aamra shoti attioder theke kromosho shore jachhi, attio shei hoi je shukh dukher shath1 hoye otthe, those who accept us as we are...Aar shesh kobita tar pathos tremendous, amon koto Ma-era aachhe/ chhilen jara nijeder jibon aei nishthur songshar er jonno aei bhobe noshto korechhen....

    ReplyDelete
  3. attiota mone gore othe.nam na jana onek somporkoi attiotar rup nei.manush r pranir partokyo ektai manush bhalobasa peyeo oporke aghat dei ba thokai, pranira bisas ghatokota korena, bhalobse.

    ma der kosto, bonchona amader theke ke besi onuvob korbe! kobita ta khub bhalo.

    ReplyDelete
  4. Tomar haat dhore ghure beriyechhi mymensingh, amlaparHa, gollachhuter maath, brahmaputra, medical college.

    Tomar paye payei par hoyechhi Abokash er protiti choukath, uthon.

    Tomar chokh diyei dekha dhaka, shaheed minar, mongla bandar.

    Tomar chokh diyei jeebon dekha opar banglar, ja konodin amar chhilo.

    Tomar kolom chhobi enke chole jeebon er aar ami-amra somriddho hoi.



    ReplyDelete